বর্তমানে অনেকেই অনুভব করেন যে তারা সর্বদা ক্লান্ত। কিন্তু আপনি একা নন, একটি জরিপে দেখা গেছে যে, গড়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রাপ্তবয়স্করা সপ্তাহে তিন দিন ক্লান্তি অনুভব করেন এবং ৩০ থেকে ৪৮ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্কের ঘুমের সমস্যা থাকে। তবে অনেক সময় সমস্যাটি ঘুমের পরিমাণের নয়, বরং আমাদের ঘুম নিয়ে উদ্বেগের কারণে ঘটে, যা মিথ্যা ধারণার জন্ম দেয়।

মিথ ১ – এটা গুরুত্বপূর্ণ নয় কখন আপনি ঘুমাচ্ছেন, যতটুকু ঘুমাচ্ছেন, তা যথেষ্ট।

এটি আসলে একটি ভুল ধারণা, আমাদের ঘুমের সময়ের ব্যাপারটিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের শরীরের একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি বা সারকেডিয়ান রিদম রয়েছে, যা আমাদের শরীরকে বলে দেয় কখন ঘুমাতে হবে। বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, যাদের সারকেডিয়ান রিদম ব্যাহত হয় (যেমন রাতের শিফটের কাজ করা বা জেটল্যাগ), তারা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা যেমন উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং আরও অনেক কিছুতে আক্রান্ত হতে পারে।

মিথ ২ – সবাইকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত।

এটি একটি প্রচলিত ধারণা, কিন্তু বাস্তবে মানুষের ঘুমের প্রয়োজনীয়তা একেকজনের জন্য একেক রকম। কিছু মানুষ ৬ ঘণ্টা ঘুমিয়েও সুস্থ থাকে, আবার অন্যদের ১০ ঘণ্টা প্রয়োজন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনি কি স্বাভাবিকভাবে ঘুম থেকে উঠে যাচ্ছেন, নাকি অ্যালার্মে ঘুম ভাঙছে। আপনি যদি স্বাভাবিকভাবে উঠে থাকেন, তাহলে আপনার ঘুম পর্যাপ্ত বলে মনে করা যেতে পারে।

মিথ ৩ – প্রতিদিন এক সময়ে ওঠা উচিত।

সাধারণত প্রতিদিন একই সময়ে ওঠা ভালো, তবে এটি সম্পূর্ণ সত্য নয়। আমাদের সারকেডিয়ান রিদম জীবনের বিভিন্ন স্তরে পরিবর্তিত হয়, বিশেষ করে কিশোর বয়সে এবং বয়স বাড়ার সাথে সাথে। তাই এটি খুব জরুরি নয় যে প্রতিদিন একই সময়ে উঠতে হবে।

মিথ ৪ – ঘুমানোর আগে Blue Light পরিহার করা উচিত।

Blue Light কিন্তু আমাদের শরীরে তেমন প্রভাব ফেলে না। গবেষণায় দেখা গেছে যে, Blue Light -এর কারণে ঘুমে কোনো উল্লেখযোগ্য বিলম্ব হয় না। অতএব, কম্পিউটারের সামনে কাজ করলে ঘুমের সমস্যা হওয়ার কথা নয়।

মিথ ৫ – ঘুমের অ্যাপস আপনার ঘুম উন্নত করবে।

অনেক মানুষ ঘুমের অ্যাপ ব্যবহার করে ঘুমের গুণগত মান ট্র্যাক করার জন্য, কিন্তু বাস্তবে এসব অ্যাপের ডেটা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হতে পারে। অন্যদিকে আপনার শরীরের প্রকৃত অনুভূতি, যেমন কতটা সতেজ অনুভব করছেন বা ঘুম থেকে ওঠার পরে ক্যাফেইন প্রয়োজন কিনা, এইসব সিগনাল আপনার জন্য আরও কার্যকরী হতে পারে।

মিথ ৬ – মেলাটোনিন আমাদের ঘুম ভালো করে।

যদিও মেলাটোনিন কিছু ক্ষেত্রে সাহায্য করতে পারে, বিশেষত জেটল্যাগের জন্য, তবে এটি ঘুমের গুণমান বা ঘুমের সময়সূচি পরিবর্তনের জন্য তেমন কার্যকরী নয়। বেশ কিছু গবেষণা দেখায় যে, মেলাটোনিনের দ্বারা ঘুমের সময় কমানো হয় মাত্র ৭ মিনিট, যা খুবই নগণ্য।

মিথ ৭ – পলিফেজিক ঘুম প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায়।

পলিফেজিক ঘুম হলো একাধিক ছোট ছোট সেশনে ঘুমানো। পলিফেজিক ঘুমের ধারণাটি অনেক আগেই জনপ্রিয় হয়েছিল, যেখানে দিনে একাধিক বার ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে, গবেষণায় দেখা গেছে যে এটি আসলে প্রোডাক্টিভিটি বাড়ায় না, বরং ঘুমের অভাবের কারণে কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আপনার শরীরের সিগনালগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনুন, আপনি কী অনুভব করছেন এবং ঘুম কীভাবে আপনার শরীরের উপর প্রভাব ফেলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *